প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক মিছিলে আনার অভিযোগ
বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের দাবিতে চলমান আমরণ অনশনে সংহতি জানাতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জোর করে মিছিলে আনার অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ব্রাকসু অন্তর্ভুক্তি ও দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে নয়জন শিক্ষার্থী টানা দুই দিন ধরে অনশনে রয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগ, জেলা সমিতি, শিবির ও ছাত্রদল অনশনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, অনশনে না থেকেও নেতৃত্ব দানকারী রহমত আলীর নির্দেশে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী নবীনদের ডেকে এনে মিছিলে দাঁড় করান।
একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা স্বেচ্ছায় যাইনি, আমাদের মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনশন ও আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। কাউকে জোর করে টেনে আনা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করার শামিল।
তবে অনশনকারীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, “শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মিছিলে যোগ দিয়েছেন।”
রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর গেটে নয়জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। তারা হলেন আশিকুর রহমান আশিক (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং),জাহিদুল ইসলাম জয় (সমাজবিজ্ঞান) ,মাহিদ ইসলাম (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা),কায়সার (ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং),নয়ন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান),রাজ (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা),আতিকুর (অর্থনীতি),আরমান (গণিত),শিবলি সাদিক (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ)।
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্দোলন ও অনশনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। শিক্ষার্থীরা যদি কোনো দাবি বা আন্দোলন করে, সেটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে কাউকে জোর করে কোনো কর্মসূচিতে নিয়ে আসা সমীচীন নয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
আমরা চাই শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতামত প্রকাশ করুক, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই চাপ প্রয়োগ বা জোরপূর্বক অংশগ্রহণ কাম্য নয়। যদি এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”





