নাটোর প্রতিনিধি:নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আকাশ (২৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর–বনপাড়া মহাসড়কের বনলতা অটো ভাটার অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আকাশ উপজেলার চক নটাবাড়িয়া গ্রামের দুলাল ব্যাপারীর ছেলে।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, গভীর রাতে বনলতা অটো ইটভাটায় অবৈধভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি আনা হয়। এতে মহাসড়কে মাটির প্রলেপ পড়ে। গত রাতে বৃষ্টির কারণে ওই মাটি কাদায় পরিণত হয়ে সড়কে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করে।
সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে করে আকাশ বনপাড়া বাজারে যাওয়ার পথে ওই কাদায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরে বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে বনলতা অটো ভাটার সামনে মহাসড়কে মাটি ফেলার প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় ফ্যাক্টরির পরিচালকসহ অফিস স্টাফরা অফিসে তালা মেরে সেখান থেকে চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহায়তায় তারা পুনরায় ভাটায় ফিরে আসেন।
বনলতা অটো রি-ফ্যাক্টরির পরিচালক কামরুল ইসলাম জানান, কিছু চাঁদাবাজ চাঁদা না পেয়ে ভাটায় হামলা চালিয়েছে, নগদ টাকা লুটপাট করেছে এবং এতে তাদের ৪ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নিহত আকাশের চাচা সাংবাদিক সুরুজ বলেন, বনলতা ভাটার অবৈধ মাটি পরিবহনের কারণে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি প্রাণ ঝরে গেছে তাদের উদাসীনতার কারণে। নিহতের বন্ধুরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাটার সামনে গিয়ে স্লোগান দিয়েছে। ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিজেদের দোষ ঢাকতেই তারা এসব অভিযোগ করছে।
ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাস্তার কাদা ও বালির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।