ভারতের সঙ্গে একটি নতুন ও ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্নের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লির ওপর আরোপিত শুল্কও শিগগিরই কমানো হবে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোরের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করছি, যা আগের যেকোনো চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন হয়তো তারা আমাকে খুব একটা পছন্দ করে না, কিন্তু শিগগিরই আবার আমাদের পছন্দ করবে।”
অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স, সিনেটর মার্কো রুবিও ও এরিকা কার্ক উপস্থিত ছিলেন। তবে ভ্যান্সের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী উষা ভ্যান্স অনুষ্ঠানে ছিলেন না।
ভারতকে প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “ভারত বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর একটি এবং এক অসাধারণ দেশ, যার জনসংখ্যা প্রায় দেড়শ’ কোটি। ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় সম্মান।”
বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতির প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখন একটি ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তির পথে। আগের চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোটেও লাভজনক ছিল না। ভারত খুব দক্ষ আলোচক—সের্জিও, তুমি বিষয়টা গভীরভাবে দেখবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। আমার মনে হয়, এই চুক্তি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।”
ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “ভারতের ওপর শুল্ক বর্তমানে তুলনামূলক বেশি, মূলত রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে। তবে তারা এখন রুশ তেল আমদানি অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে শুল্ক কমাতে যাচ্ছি।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “শুল্ক না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের মতো অর্থনৈতিকভাবে বিপদে পড়বে, তাই বিষয়টি আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে দেখছি।”
ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে রুশ তেলের ক্ষেত্রে ছিল ২৫ শতাংশ। এ নিয়ে নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে “অন্যায্য ও অবিচারপূর্ণ” বলে সমালোচনা করেছিল।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ নিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচ দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। গত মাসে নয়াদিল্লির এক কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ ইস্যুতে ইতিমধ্যেই ঐকমত্য হয়েছে, এখন মূলত চুক্তির ভাষা ও কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।





