বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী মোনাফেকি করে; তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। তিনি বলেন, “জামায়াত ভোটের নামে বেহেশতের টিকিট বেঁচে দেয়। তারা মোনাফেকি করে — আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ভোট হলে জামায়াতের অস্তিত্বই থাকবে না।”
গতকাল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কেকে বাড়ি লক্ষ্মীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বড়গাঁও ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
জামায়াতকে ইসলামহীন ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্বাস— কর্মেই হবে বেহেশত অর্জনের পথ। মানুষকে ভালোবাসা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা, মিথ্যাচার না করা, সুদ খাওয়ার পরিহার—এসবের মধ্য দিয়েই বেহেশতের পথ তৈরি হয়। জামায়াতের টিকিট কেটে কি কেউ সরাসরি বেহেশতে যেতে পারবে? যারা মোনাফেকি করে, তাদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।”
শাসকদল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল। তারা জনগণের অধিকার বিনষ্ট করেছে—ভারতে বসে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে গাড়ি পোড়ানো হয়েছে, দেশের সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে, তারপরও তারা এখানে ফিরে আসবে? আমরা তাদের আসতে দেবো না। সাহস আছে হলে জনগণের সামনে এসো। খালেদা জিয়া ছয় বছর জেলে ছিলেন; আপনাকে (শেখ হাসিনা) জেলে থাকতে হলে সাত-আট বছর লাগবে।”
এনসিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এলাকায় এনসিপির কোনো উপস্থিতিই নেই; তাই তারা জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলাচ্ছে। তারা পিআর চায়, কিন্তু জনগণ পিআর বোঝে না।”
সভায় বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহম্মদ আলী সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সাবেক সহসভাপতি ওরায়দুল্লাহ মাসুদ, পৌর সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন প্রমুখ।
এরপর বিকেলে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি চায় না। আওয়ামী লীগ যেভাবে হয়রানিমূলক মামলা করেছে, বিএনপি তা করবে না। যদি কোথাও ওই ধরনের মামলা হয়েছে, সেগুলো তুলে নেওয়া হবে।” সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আল মামুন আলম।





