গাজায় হামাসের কাছে জিম্মি থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি সেনা নামা লেভি। তিনি বলেন, “জিম্মি অবস্থায় সবচেয়ে বড় ভয় ছিল হামাস নয়, ইসরায়েলি বিমান হামলা।” সম্প্রতি তেল আবিবে জিম্মি মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

\r\n

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, জানুয়ারিতে একটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তির আওতায় গাজা থেকে মুক্ত হয়ে ফেরত আসেন নামা লেভি। তিনি ছিলেন হামাসের হাতে বন্দি পাঁচ নারী আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সদস্যের একজন।

\r\n

সমাবেশে লেভি বলেন, “প্রতিটি ইসরায়েলি বিমান হামলা ছিল বিভীষিকাময়। কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ একটা বাঁশির মতো শব্দ, তারপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। মনে হতো, আর কোনো দিন পৃথিবীতে শ্বাস নিতে পারব না।”

\r\n

তিনি জানান, একবার তিনি যে ঘরে ছিলেন, সেই বাড়ির উপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বাড়ির এমন পাশে ছিলেন, যেটি হামলার মূল লক্ষ্য ছিল না। তিনি বলেন, “আপনার পক্ষে তখন দৌড়েও পালানো সম্ভব নয়। নিজেকে তখন চূড়ান্তভাবে অসহায় মনে হয়।”

\r\n

গাজার কঠোর অবরোধের বাস্তবতা তুলে ধরে নামা বলেন, “খাবার তো ছিলই না, এমনকি পানিও কেটে দেওয়া হয়েছিল। একদিন বৃষ্টি হওয়ায় হামাস সদস্যরা সেই পানি এনে দেয়। ওই এক কাপ পানি তখন এক বাটি খাবারের মতো শক্তি দিয়েছিল।”

\r\n

লেভি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জিম্মি অবস্থায় আমাদের ভয়াবহ বাস্তবতা জানার পরও আমাদের উদ্ধার না করাটা ছিল ইচ্ছাকৃত। প্রথম দফার জিম্মিমুক্তির সময়েও যাঁরা ফেরত এসেছিলেন, তাঁদের বর্ণনার পরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”

\r\n

এমন অভিজ্ঞতা আরও একজন মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিও সম্প্রতি ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছি ইসরায়েলের বিমান হামলা থেকে—হামাস নয়। ভয় ছিল, ওরাই মেরে দিয়ে বলবে, হামাস আমাদের হত্যা করেছে।”

\r\n

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন হামলা চালায়। ওই হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখনো অন্তত ৫৮ জন জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

\r\n

নামা লেভির মতো জিম্মিদের অভিজ্ঞতা ইসরায়েলি সমাজে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।