ইলিশসহ সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় শুরু হচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা ও আহরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। এ সময় সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের টাস্কফোর্স টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই উপকূলীয় এলাকায় জেলেরা সাগর থেকে ফিরে এসেছেন। বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার ঘাটগুলোতে ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে এবং জেলে পল্লিগুলোতে নীরবতা নেমে এসেছে।

তবে দীর্ঘ দুই মাস কর্মহীন থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। প্রায় ২৫ হাজার জেলে এ সময়ে আয়বিহীন অবস্থায় পড়বেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার, যার মধ্যে সমুদ্রগামী জেলে ১০ হাজারের বেশি। নিষেধাজ্ঞা সময়ে এসব জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে মাথাপিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জেলেরা অভিযোগ করেছেন, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময় তারা কর্মহীন হয়ে পড়লেও সময়মতো সহায়তা পান না। পাশাপাশি এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিতেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া অবৈধভাবে বিদেশি জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকরা।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সমুদ্র এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।