চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া করেছেন। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার রেহান উদ্দিন রিহান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের সমুদ্র উপকূলে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক “আমি-ডামি” নির্বাচনের এমপি এস এম আল মামুনের চাচাতো ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের ক্রয়কৃত ১০০ একর কৃষি জমিতে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাটের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসী রোষানলে পড়ে।
সোমবার দুপুরে প্রায় চার থেকে পাঁচশত গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে একত্রিত হন। তারা জানিয়ে দেন, ফসলি জমিতে কোনোভাবেই বালু ভরাট করা যাবে না এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ চালানো সম্ভব নয়। এতে কৃষকরা জমি রক্ষার জন্য সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। গ্রামবাসীর ধাওয়ায় জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন, রেহান উদ্দিন এবং তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পালানোর সময় কয়েকজন নেতারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও রেহান উদ্দিন গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে কুমিরা, আকিলপুর, বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকায় শত শত ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও জমি ভরাটের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর ফলে ফসলি জমি ও স্থানীয় কৃষকের উৎপাদন বিপন্ন হচ্ছে।
এদিন, জসিম উদ্দিন ও রেহান উদ্দিন অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসীসহ ড্রেজার মেশিন নিয়ে পশ্চিম সৈয়দপুরে পৌঁছান। তারা সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিবাদ জানিয়ে পাইপগুলো ফেলে দেন। জামায়াত নেতারা জানান, তারা প্যাসিফিক জিন্সের মালিক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের নির্দেশে কাজ করছিলেন। তবে স্থানীয়রা জানিয়ে দেন, ফসলি জমিতে কোনোভাবেই বালু ভরাট করা যাবে না।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি মোহসেন আলী বলেন, স্থানীয়রা কৃষি জমি রক্ষায় সরাসরি ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড অনুমোদন ছাড়া করা যাবে না। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আইনুল কামালও জানিয়েছেন, ফসলি জমিতে বালু ভরাট করা অমানবিক এবং কৃষক ও এলাকার ক্ষতি করছে।
জানা গেছে, প্যাসিফিক জিন্সের কর্ণধার সৈয়দ তানভীর আগেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের ১০০ একর জমি ক্রয় করেছিলেন। এই জমি কয়েক বছর ধরে ভরাট করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি আবারও ভরাটের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সরাসরি প্রতিরোধে নামে।
জামায়াতের স্থানীয় নেতা আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, তাদের দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, দলের কোনো কর্মকাণ্ড এতে জড়িত নয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের প্রতিরোধ করেছে। তবে এখনো কেউ থানায় মামলা দায়ের করেননি। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করে কৃষি জমি ভরাটের কোনো অনুমোদন তারা দেননি এবং এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা কৃষি জমি ও ফসল রক্ষার জন্য সরাসরি ভূমিকা নিয়েছেন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের নজরদারির প্রয়োজনীয়তা পুনরায় এসেছে।





