রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চিকিৎসাধীন আরও একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া (১৩)। তিনি মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, আগুনে মাহাতাবের শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এর ফলে এখন পর্যন্ত বার্ন ইনস্টিটিউটে মোট ১২ জনের মৃত্যু হলো।

মাহাতাবের মামা আঞ্জুম সিফাত জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বনকুট গ্রামে। বাবার নাম মিনহাজ ভূঁইয়া। বর্তমানে তারা রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর রোডে বসবাস করেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাহাতাব ছিল ছোট। বড় বোন নাবিলা একই স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে।

মাহতাবের চাচা তানভীর ভূঁইয়া বলেন, “মাহতাবের ক্লাস ছিল স্কুল ভবনের দ্বিতীয় তলায়। ঠিক এর নিচেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে সে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় আগুনে ঝলসে যায় তার শরীর।”

গত সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বুধবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত আইএসপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ছিল ৩১ জন। মাহাতাবের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩২ জনে।

দগ্ধ ও আহত আরও বহুজন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে অনেকের অবস্থাই এখনও আশঙ্কাজনক।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও শিক্ষার্থী পরিবারগুলো।