সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চলে যাওয়ার সাতদিন পরও তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা অব্যাহত। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন, কিন্তু দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখনও তার কবর জিয়ারতে এসে নীরবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

কবরস্থানে আসা মানুষরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, কোরআনের তেলাওয়াত করছেন, কেউ কেউ চোখ মুছে অশ্রু ঝরাচ্ছেন। উপস্থিতদের মধ্যে কেউ খালেদা জিয়াকে সাহসের প্রতীক হিসেবে দেখেন, কেউ তাকে আপসহীন নেত্রী মনে করেন। বয়স, পেশা বা রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও প্রত্যেকেই একই অনুভূতি নিয়ে কবরের পাশে জড়ো হয়েছেন।

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অপারিসীম, তাই শ্রদ্ধা জানাতে এখানে এসেছেন। বিএনপির রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেগম জিয়া তাদের আদর্শিক মা, তার প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিরাজমান।

এদিকে, কবরস্থানের কম্পাউন্ডের বাইরে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া চক্রের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

রাজধানী থেকে কবর জিয়ারতে আসা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, “আমার কোনো রাজনৈতিক পদ নেই, তবে জিয়া পরিবার এবং বিশেষ করে খালেদা জিয়ার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অপার। শহীদ জিয়া আমার আইডল, বেগম জিয়া আমাদের আপসহীন নেত্রী। তার জন্য মাগফিরাত কামনায় এখানে এসেছি।”

মানুষের এ উপস্থিতি প্রমাণ করছে, সত্যিকারের নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতায় থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে সময়, দল ও মতভেদের ঊর্ধ্বে জায়গা করে নেয়।