চকলেটপ্রেমীদের জন্য আবারও বাড়তি খরচের সময় আসছে। কোকোয়ার দাম বাড়ার প্রভাব এখন ধীরে ধীরে খুচরা বাজারে পড়তে শুরু করেছে। তবে আগামী ইস্টারের সময় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

গত কয়েক বছরে কোকোয়ার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব এবং সরবরাহের সংকটের কারণে এই বৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কোকোয়া পশ্চিম আফ্রিকায় উৎপাদিত হয় এবং সেখানকার পরিস্থিতিই মূলত দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এই প্রবণতার কারণে বিশ্বজুড়ে খুচরা বাজারেও পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ভোক্তাদের খরচ বেড়েছে এবং মিষ্টিজাত খাবারের চাহিদাও কমেছে।

যুক্তরাজ্যের ভোক্তা সংগঠন হুইচের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, চকলেটপণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, গড়ে ১১ শতাংশ। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রে হার্শিস কিসেসের মতো জনপ্রিয় চকলেটের দামও এক বছরে প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইস কোম্পানি লিন্ডট অ্যান্ড এসপিআর এনজিলের প্রধান আদালবের্ট লেকনার জানিয়েছেন, কোকোয়ার দাম আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

যদিও ২০২৫ সালের কোকোয়ার ফিউচার বা আগাম বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। জানুয়ারিতে প্রতি টনের দাম ছিল ৮,১৭৭ ডলার, যা আগস্টে নেমে এসেছে ৭,৮৫৫ ডলারে। তবে তিন বছর আগে এই দাম ছিল মাত্র ২,৩৭৪ ডলার। এই সাম্প্রতিক পতনের প্রভাব এখনই চকলেটের খুচরা দামে পড়বে না। জেপি মর্গানের কৃষিপণ্য কৌশলবিদ ট্রেসি অ্যালেন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠা দাম এখনো শিল্প খাতের ওপর প্রভাব ফেলছে। ব্যবসার বাড়তি ব্যয় ভোক্তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে এবং বাজারে কোকোয়া ঘাটতির কারণে দামের চাপ কিছুদিন আরও থাকবে।

সুইস চকলেট নির্মাতাদের সংগঠন চকোসুইসের মুখপাত্র লিডিয়া টোথ বলেন, গত দুই বছরে কোকোয়ার দাম চার গুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। খুচরা দামের পরিবর্তন ধীরে হয়, তাই নির্মাতাদের লাভের হারও কমছে। ছোট ব্যবসা থেকে আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারক—সবাই এতে চাপের মুখে পড়েছে। কিছু খরচ ভোক্তার ওপর চাপানো হলেও আগের মূল্যে ফেরার সম্ভাবনা নেই।

তবে ইস্টারের সময় সামান্য স্বস্তি মিলতে পারে। জেপি মর্গানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শিল্প খাতের চাহিদা কিছুটা কমেছে এবং সরবরাহ বাড়ছে। ইকুয়েডর ও ব্রাজিলে নতুন কোকোয়া গাছের ফলন বাজারে আসছে এবং আবহাওয়াও অনুকূল। তবে দীর্ঘ মেয়াদে কোকোয়ার দাম প্রায় ছয় হাজার ডলারের কাছাকাছি থাকবে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, আইভরি কোস্ট ও ঘানায় রোগব্যাধি ও বিনিয়োগের অভাবের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। পশ্চিম আফ্রিকার আবহাওয়া উন্নত হলেও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট পুরোপুরি কাটবে না, ফলে দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ন্যূনতম মজুরি এবং কর্মচারীদের কল্যাণে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাবও ভবিষ্যতে চকলেটের দামে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

সব মিলিয়ে ভোক্তাদের জন্য বার্তাটা স্পষ্ট: চকলেটের দাম আরও কিছুদিন বাড়তি থাকবে।