লাখ লাখ টাকা খরচ করেও কলকাতায় এসে প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির এক ঝলক দেখতে না পারার ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। শনিবার কলকাতার মাঠে আয়োজিত বহুচর্চিত অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার মধ্যেই অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা। মাঠে ঢুকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত তাঁকে সরিয়ে নিতে হয়।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের ব্যর্থ আয়োজনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-এই বিশৃঙ্খলার জন্য কি শুধুমাত্র আয়োজকরাই দায়ী, নাকি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ‘হেভিওয়েট’ নেতা-নেত্রী ও তারকারাও দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন?

এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি ছবি, যেখানে তাঁকে লিওনেল মেসির সঙ্গে দেখা যায়। ছবিতে মেসির পাশে ছিলেন তাঁর বন্ধু লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার রদ্রিগো ডি পল। একই ফ্রেমে দেখা যায় শুভশ্রী ও তাঁর ম্যানেজার রাজদীপ ঘোষকে।

ছবি ভাইরাল হতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন-সাধারণ দর্শক যেখানে এক ঝলক মেসিকেও দেখতে পেলেন না, সেখানে কীভাবে তারকা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা মেসির এত কাছে গিয়ে ছবি তুলতে পারলেন? শুধুমাত্র পরিচিতি ও প্রভাবের কারণেই কি সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে গেল-এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শনিবার মেসি মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক নেতা, তারকা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের ভিড়ে মেসিকে কার্যত ঘিরে ফেলা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সাধারণ দর্শকরা পিছনে পড়ে যান। ক্ষোভ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে পানির বোতল ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মেসিকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিনেতা শাহরুখ খানও।

এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে-এমন আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানে কেন পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ছিল না? সাধারণ মানুষ কি শুধুই টিকিট কেটে খরচ করার জন্যই, নাকি তাঁদেরও সমান অধিকার ছিল প্রিয় ফুটবলারের দেখা পাওয়ার?

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সূত্র: এই সময়