বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, যাদেরকে দেশের মানুষ ‘গুপ্ত’ নামে চেনে, সেই নতুন জালেমদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল ও ব্যালট ছাপাচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১টার দিকে বরিশাল নগরের বন্দর রোডের বেলস পার্কে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পত্র-পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এসব গোষ্ঠীর পরিচিত কিছু প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, যা তারা পকেটে করে বহন করবে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই গোষ্ঠী নিজেদের সৎ মানুষের শাসন কায়েমের কথা বলছে। অথচ নির্বাচনের আগেই তারা জাল ব্যালট ছাপানো ও অনৈতিক উপায়ে মানুষের ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। যাদের শুরুটাই অনৈতিক, তারা কখনো সৎ শাসন দিতে পারে না।
মা-বোনদের অপমানের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ধরা পড়ার পর তারা নানা অজুহাত দিচ্ছে এবং বলছে তাদের আইডি হ্যাক হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়নি। সত্য সামনে আসার পর তারা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ১৩ তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকতে হবে। জনগণ পাশে না থাকলে কী হয়, তা ৫ আগস্ট সবাই দেখেছে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় নারীদের শিক্ষায় নেওয়া উদ্যোগের কথা স্মরণ করে বলেন, বিএনপিই প্রথম ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের কর্মসংস্থান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর বরিশালে আসেন তিনি। তাকে স্বাগত জানান বরিশাল বিভাগ ও জেলার শীর্ষ নেতারা। তার আগমন ঘিরে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবার চেয়ারম্যান হিসেবে তার আগমন দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন আগ্রহ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলীয় নেতারা।





