জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনায় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হবে। একইভাবে, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য সম্ভব হয়নি, সেগুলোর বিষয়েও স্বচ্ছভাবে জানানো হবে।

\r\n

রোববার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা স্বচ্ছতার জন্য এবং জনগণকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার লক্ষ্যে এসব তথ্য প্রকাশ করব। আমাদের বিশ্বাস, এটি অত্যন্ত জরুরি।”

\r\n

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য হলেও আদর্শিক পার্থক্যের কারণে কিছু বিষয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। “সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে—এটা বাস্তবসম্মত নয়,” বলেন আলী রীয়াজ।

\r\n

সুশীল সমাজের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। নাগরিক সমাজের মধ্যেও এ বিষয়ে সমর্থন এবং অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন।”

\r\n

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সম্ভাবনা যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি তা কঠিন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে।”

\r\n

আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ইফতেখারুজ্জামান, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

\r\n

সুশীল সমাজের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন, মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন ও সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, গবেষক মির্জা এম হাসান, ইলিরা দেওয়ান, আশরাফুন নাহার মিষ্টি, বাসুদেব ধর এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা রাজিয়া।