সমকামিতা, যৌন হয়রানি ও শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির ৪(১)(F) ধারায় চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে ৩১ মে ২০২৫ থেকে।
অফিস আদেশে আরও জানানো হয়, বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পূর্বে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটি ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনরায় তদন্তে পাঠানো হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দীন বলেন, “এর আগে প্রশাসন প্রহসনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে আমরা হাফিজুল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেছি। আজকের এই সিদ্ধান্তে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু ক্যাম্পাসে এখনও অনেক ‘হাফিজ’ রয়েছে—আমরা চাই প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিক।”
এ বিষয়ে হাফিজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৭ দফা অভিযোগ উত্থাপন করে তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল—সমকামিতা, যৌন হয়রানি, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্মীয় অবমাননা, রাজনৈতিক দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা, ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল দেওয়া ইত্যাদি। ওই সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন এবং শিক্ষক হাফিজুলের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।





