রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ তাদের ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।


ইশতেহারে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, আবাসন, নিরাপত্তা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা তাদের অগ্রাধিকার, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।


এছাড়াও, ক্যাম্পাসে মানসম্মত ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিতকরণের দাবি জানানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনমানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নানামুখী সমস্যার কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে—বিশেষ করে নিরাপদ যাতায়াত, পর্যাপ্ত ক্লাস স্পেস এবং রিডিং রুমের সুবিধা।


শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে কারিকুলামকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও সময় সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্যানেলটি।


বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা, শিক্ষার্থীদের তথ্যসেবা সহজ করা, নারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক ক্যাম্পাস তৈরি করাও তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।


তারা ক্যাম্পাসে ‘টিচার্স ইভ্যালুয়েশন’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে শিক্ষকতার মান ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে ‘অন-ক্যাম্পাস জব’ বা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেই শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।


বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের অধিকার রক্ষার কথাও তারা স্পষ্টভাবে বলেছে। ক্যাম্পাস সংস্কৃতির বৈচিত্র্য রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।


এছাড়া তারা বলেছে, সাহিত্য, ক্রীড়া, সামাজিক সংগঠন ও প্রকাশনার বিকাশে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং ক্যাম্পাসে সব ধরনের অপরাধ দমন করতে কাজ করবে।


প্যানেলটি সাতটি বিষয়ে স্পষ্টভাবে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে, যেমন—শিক্ষার পরিবেশ, আবাসন সমস্যা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং তথ্যসেবায় উন্নয়ন। অন্যদিকে তারা সাতটি বিষয়ে কঠোর বিরোধিতা করেছে—যেমন: অযৌক্তিক হল ফি, সিট বাণিজ্য, রাজনীতির নামে ট্যাগিং ও সহিংসতা, সাইবার বুলিং, ধর্মবিদ্বেষ, মাদক এবং ছিনতাই।


\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে থেমে থাকবে না, বরং বাস্তবায়নের জন্য প্রতি মাসে দুটি করে দফা কার্যকর করার চেষ্টা করবে এবং ক্যাম্পাসে তা সবার সামনে তুলে ধরবে। তিনি আরও বলেন, এই ইশতেহার কোনো অলীক কল্পনা নয়—এটি বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা এবং এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও তারা প্রস্তুত।