দীর্ঘ ৩৪ বছর পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ছিলেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে সব কেন্দ্রের ভোট গণনা করে বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, জিএস পদে সালাহউদ্দিন আম্মার পেয়েছেন ১১ হাজার ৫৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী ফজলে রাব্বি ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৯ ভোট। ব্যবধান ৫ হাজার ৮০৮।

অন্যদিকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত শেখ নূর উদ্দীন আবির পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯০।

সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পেয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী সালমান সাব্বির। তিনি ৬ হাজার ৯৭১ ভোট পেয়ে ছাত্রদল সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস এষাকে (৫ হাজার ৯৪১ ভোট) পরাজিত করেন। ব্যবধান ছিল ১ হাজার ৩০ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন সূচনা দেখছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। দিনভর নানা অভিযোগের মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনে ১০টি প্যানেল অংশ নেয়। রাকসুর ২৩ পদে ২৪৭ জন, ১৭টি হল সংসদের ১৫ পদে ৫৯৭ জন এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাকসুতে ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ জন ও এজিএস পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। মোট ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, নারী হলে ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।