রাজশাহী এনসিপির চলমান অস্থিরতা এবং উদ্ভূত সমস্যার বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে দলটির জেলা শাখা। সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নগরের সিএনবি মোড়ে থাকা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য রাজশাহী এনসিপিকে জড়িয়ে যে কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে, তা আর বরদাশত করা হবে না। বক্তারা বলেন, “জাতীয় নাগরিক কমিটি বা এনসিপি রাজশাহীতে অন্য কারও মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বা পরিচিত হয়নি। আমাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসংখ্য কর্মীর শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই এ সংগঠন দাঁড়িয়েছে। দলটিকে সামনে রেখে নোংরামি বন্ধ করুন। অন্যথায় সেই কালো শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজশাহী থেকে বিতাড়িত করা হবে।”


তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশে পরিশ্রমীদের যথাযথ মূল্যায়ন এখনো করা হয় না। সঠিক মূল্যায়ন হলে সংগঠনটি আজ আরও সুসংগঠিত অবস্থায় থাকত।


ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে নাহিদুল ইসলাম সাজু লিখিত বক্তব্যে বলেন, “১১ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের সংগ্রাম এবং নানা বাধা মোকাবিলা করেছি। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও পড়তে পারিনি। ক্রসফায়ারের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি। এরপরও শুধু বয়সের কারণে আমাকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও দলের স্বার্থে সব মেনে নিয়েছি।”


তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যোগ্যতার মূল্যায়ন কি শুধু বয়সভিত্তিক হওয়া উচিত?” উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, “যদি বয়সই যোগ্যতার মাপকাঠি হতো, তাহলে নাহিদ ইসলাম ভাইয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা পেত না।” তিনি অভিযোগ করেন, রাজশাহীতে মাঠের রাজনীতি ও রাজপথের কর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন, বরং যারা ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করেন, তাদেরকে আজ যোগ্য বিবেচনা করা হচ্ছে।


সংবাদ সম্মেলনে জেলা নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অনুরোধ জানান, রাজশাহী জেলা কমিটিকে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করা হোক এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা হোক। তারা সতর্ক করে বলেন, “ব্যক্তিস্বার্থের কারণে দলকে ধ্বংস করবেন না। আমরা তরুণরা রাজশাহীতে এনসিপির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখি। প্রয়োজনে আমাদের সময় দিন, কিন্তু কোনো কালো শক্তি, লোভ বা ক্ষমতার কারণে আমরা আমাদের আদর্শ বিসর্জন দেব না।”