রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক নিয়োগে শুরু হয়েছে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার এক নতুন অধ্যায়। এখন থেকে সরাসরি ভাইভার মাধ্যমে নয়, প্রার্থীদের প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হচ্ছে মেধাক্রম, যার ওপর ভিত্তি করে তিন গুণ বা তার বেশি প্রার্থীকে ডাকা হচ্ছে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা)।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান জানান, “নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা নতুন প্রক্রিয়া চালু করেছি। এর মাধ্যমে সত্যিকারের মেধাবীরাই শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পাবেন, যাঁরা শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারবেন।”


লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি করছেন বোর্ডের সদস্যরা নিজের হাতে লিখে। এরপর বোর্ডের সভাপতি তথা মাননীয় উপাচার্য প্রশ্নগুলো যাচাই-বাছাই করে চার-পাঁচটি প্রশ্ন চূড়ান্ত করেন ৪৫-৫০ মিনিটের পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষা শেষে একজন সদস্য উত্তরপত্রগুলো কোডিং করেন, যাতে পরীক্ষার্থীর নাম পরিচয় গোপন থাকে।


প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন করেন। এরপর সব নম্বর যোগ করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হয়। তারপর কোড ভেঙে (ডিকোডিং) মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের রোল নম্বর প্রকাশ করা হয়। মৌখিক পরীক্ষার পারফরম্যান্স ও লিখিত পরীক্ষার নম্বর বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী সুপারিশ করা হয়।


এই উদ্যোগকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষক নিয়োগে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীরা এগিয়ে আসবে এবং দেশের উচ্চশিক্ষা আরও সমৃদ্ধ হবে।