দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করান চাকসুর সভাপতি ও চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়াহ্ইয়া আখতার।

কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি এ সময় শপথ নেন। ১৪টি হল ও এক হোস্টেল সংসদের ২৩১ জন প্রতিনিধি শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও অনেকে উপস্থিত ছিলেন না।

চাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থীরা।

ভিপি পদে শপথ নেন ইব্রাহীম হোসেন রনি, জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব, এবং এজিএস পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল) সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।

১৮টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৭টিতেই শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা শপথ নেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—
খেলাধুলা সম্পাদক মোহাম্মদ শাওন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম, সহ-সাহিত্য সম্পাদক জিহাদ হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত, ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, সহ-ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, গবেষণা সম্পাদক তানভীর আনজুম শোভন, সমাজসেবা সম্পাদক তাহসিনা রহমান, স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসান ইমরান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান, যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া, সহ-যোগাযোগ সম্পাদক ওবায়দুল সালমান, আইন সম্পাদক তাওহিদ রাব্বি এবং পাঠাগার সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।
বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল থেকে সহ-খেলাধুলা সম্পাদক হিসেবে শপথ নেন তামান্না মাহবুব প্রীতি।

এছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে শপথ নেন জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা, সালমান ফারসি, সোহানুর রহমান ও আদনান শরীফ। তবে নির্বাহী সদস্য আকাশ দাস শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে আমাদের কমিশনের কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিনিধিরা সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না, তবে প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দিতে ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা তুলে ধরতে পারবে। এতে প্রশাসনের জবাবদিহিতা বাড়বে।”

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে মোট ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচিত হন ২৩১ জন প্রতিনিধি—এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৬ জন, হল সংসদে ১৯৫ জন এবং হোস্টেল সংসদে ১০ জন। শামসুন্নাহার হলের খেলাধুলা সম্পাদক পদটি এখনো শূন্য রয়েছে।