বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলমকে গাজামুখী নৌযান থেকে ইসরাইলি বাহিনীর অপহরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে শাঁখারীবাজার ও বাহাদুর শাহ পার্কসংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানে অংশ নেন। তাদের স্লোগানগুলো ছিল— ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’, ‘প্যালেস্টাইনে মানুষ মরে, জাতিসংঘ কি করে’, ‘স্বপ্ন দেখি প্রতিদিন, স্বাধীন হবে ফিলিস্তিন’, ‘তুমি কে আমি কে, প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন’, ‘শহিদুল আলম আটক কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই’।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও আপ বাংলাদেশের নেতা মাসুদ রানা বলেন, “২০২৩ সাল থেকে টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে ইসরাইল ফিলিস্তিনে হামলা চালিয়ে আসছে। গাজার নিরীহ মানুষদের পাশে আমরা সব সময় আছি। প্রয়োজনে গাজার পথে লং মার্চেও প্রস্তুত আছি।”
বাগছাস (বাংলাদেশ গণসংস্কৃতি সংসদ) শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “ফিলিস্তিন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আবেগ ও অনুভূতির প্রতীক। ইসরাইল এখন শুধু হামলাই নয়, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দিচ্ছে। সর্বশেষ বাংলাদেশি ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলমকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”
ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, “ইসরাইলি বাহিনী শহিদুল আলমকে অপহরণ করেছে, অথচ আমাদের সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এখন আর চুপ করে থাকার সময় নয়, ফিলিস্তিনের গণহত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে।”
ছাত্রশিবির শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “শহিদুল আলম নিজেই জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি একা নন, আরও অনেক মানবাধিকারকর্মী ইসরাইলের হাতে আটক হয়েছেন। আমরা শহিদুল আলমসহ সব আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাই।”
এর আগে বুধবার এক ভিডিও বার্তায় জানানো হয়, ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের গাজামুখী নৌযান থেকে শহিদুল আলমকে ইসরাইলি বাহিনী অপহরণ করেছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে কাজ করছে। তবে ইসরাইলি বাহিনী প্রায়ই এসব নৌবহর থামিয়ে নাবিক ও কর্মীদের আটক করে থাকে।





