মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভিক্টিমের ভাই বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ফারহান-০৪ লঞ্চে এক নারীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।


মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে ভিকটিমকে (১৭) তার বাবা হাতিয়া তমুরদ্দ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ফারহান-০৪ লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে ঢাকার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে দেন। একই সময় লঞ্চে উঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তারা ভিকটিমের কেবিনের দরজা নক করে এবং তাদের বাবা চিনেন বলে জানান। এরপর তারা মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য কিছু টাকা নিরাপত্তার স্বার্থে কেবিনে রাখতে অনুরোধ করলে ভিকটিম তা বিশ্বাস করে কেবিনে রাখেন।


এরপর তারা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে ভিকটিমের বেডে বসে। কথোপকথনের সময় মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিলে ভিকটিম রাজি না হওয়ায় তারা ভিকটিমের গলা ও মুখ চেপে ধরেন। মিঠু ভিকটিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় সাকিব কেবিনের দরজা বন্ধ করে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।


ভিকটিম ডাক-চিৎকার করলে সাকিব হুমকি দেন, যদি কেউ জেনে যায় তবে তিনি তাকে মেরে ফেলবেন। রাত ৮টার দিকে তারা আবার কেবিনে প্রবেশ করে, ভিকটিম চিৎকার করার চেষ্টা করলে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে। বর্তমানে ভিকটিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গত রাতে তাদের নামে মামলা সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ (মঙ্গলবার) তাদের কোর্টে হাজির করা হবে।