শীতের মরসুমে অনেকেই হাড়ে হাড়ে ঠাণ্ডা লাগা, কাঁপুনি বা অতিরিক্ত শীত অনুভব করেন। একই পরিবেশে কেউ স্বাভাবিক থাকলেও অন্য কেউ একেবারে কাঁপতে থাকে-এমন পার্থক্য অনেকেরই বিস্ময় জাগায়। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত শীতকাতুরে অনুভূতি কখনো শরীরের শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিতও দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা সময় শীত অনুভব হওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ হলো-
১. আয়রনের ঘাটতি ও রক্ত তৈরির ক্ষমতা কম থাকা :
আয়রন লোহিত কণিকা তৈরি করতে সহায়তা করে, যা শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আয়রন ঘাটতি থাকলে শরীর পর্যাপ্ত তাপ উৎপন্ন করতে পারে না। ফলে হাত-পা ঠাণ্ডা থাকে এবং সারাদিন শীতকাতুরে অনুভূতি থাকে।
২. থাইরয়েড গ্রন্থির কার্য কমে যাওয়া :
গলার কাছে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হরমোনের ঘাটতি (হাইপোথাইরয়েডিজম) থাকলে শরীরের নিজস্ব ‘হিট ইঞ্জিন’ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে এই রোগীরা বেশি শীতকাতুরে হন।
৩. দেহে চর্বির পরিমাণ কম থাকা :
দেহের প্রাকৃতিক চর্বি তাপ ধরে রাখে এবং শরীরের উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়। যাদের দেহে চর্বির পরিমাণ কম বা বডি মাস ইনডেক্স স্বাভাবিকের তুলনায় কম, তারা এই প্রাকৃতিক ‘ইনসুলেশন’ থেকে বঞ্চিত থাকে। তাই তাদের শীত লাগে বেশি।
চিকিৎসকরা বলছেন, যদি শীতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হলেও একজন ব্যক্তি নিয়মিত অতিরিক্ত শীত অনুভব করেন, তবে আয়রন, থাইরয়েড বা অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার উৎস খুঁজে বের করা উচিত।





