জয়পুরহাট প্রতিনিধি: পাঁচ দিন ধরে জয়পুরহাটে দাপট দেখাচ্ছিল শীতের কুয়াশা এবং নিম্নচাপ। আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা, তাপমাত্রা নিম্নগামী, এবং শহর-গ্রামের মানুষদের দৈনন্দিন জীবন নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।  আজ সকাল থেকে আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে, উজ্জ্বল রোদ যেন নতুন প্রাণ ঢেলে দিয়েছে জনজীবনে।

জয়পুরহাটের মানুষরা বলছেন, এই খোলা আকাশ এবং রোদ তাদের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করেছে। জেলার উদয়পুর ইউনিয়নের খেতমজুর লবির উদ্দিন জানান, “পাঁচ দিন ধরে সূর্যের আলো দেখতে পাইনি। আলু কচা এবং বেধে দেওয়ার কাজ করতে এসেও গায়ের কাপড় খুলতে পারিনি। আজ রোদ বের হওয়ায় মনটা অনেক শান্ত হয়েছে। রোদ থাকলে ফসল শুকানো আর কাজ সহজ হয়।”

কৃষক জুয়েল আকন্দ যোগ করেন, “আমাদের আলু জমি রোদে ঠিকমতো শুকাতে হয়। লাগাতার কয়েক দিন ধরে রোদ না থাকায় আর বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ায় সব কাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। আজ সূর্য উঠেছে, তাই মাঠে আনন্দে কাজ করছি। মানুষজনও রাস্তায় বের হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।\"

পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “নিম্নচাপ এবং কুয়াশার কারণে সর্বাধিক তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমে গিয়েছিল। তবে আজ আকাশ পরিষ্কার থাকায় আর রোদের দেখা মেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। আগামী কয়েকদিনও আংশিক পরিষ্কার আকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের সময় রোদ ঠান্ডা কমাতে সহায়ক হবে।”

এদিকে শহর ও গ্রামে সকাল থেকে লক্ষ্য করা গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বাজারে লোকজনের মুখে হাসি, শিশুরা খেলাধুলায় ব্যস্ত, এবং দিনমজুররা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কৃষকরা রোদের খুশিতে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

প্রভাষক আফসার আলী জানিয়েছে, “শীতে রোদ পাওয়া এক ধরনের উৎসবের মতো। সবাই ঘর থেকে বের হয়ে সামাজিকভাবে মেলামেশা শুরু করেছে। খেটে খাওয়া মানুষদের কাছে এটি বিশেষ আনন্দের দিন।”

পাঁচ দিনের কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার পর এই উজ্জ্বল রোদ যেন জয়পুরহাটের মানুষদের জন্য নতুন জীবন এবং আশা বয়ে এনেছে।