ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৯ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিগত সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করা হবে। এগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে অন্য ৬ জন হুইপ—মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।


চিফ হুইপ বলেন, অধিবেশন শুরুর পর আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশ হাউসে উত্থাপন করবেন। সব দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে এবং কোনগুলো ল্যাপস (বাতিল) হবে। প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো ১২ তারিখের মধ্যে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


বর্তমান সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় অধিবেশন শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে কাজ শুরু হবে। পরে সংসদ নেতার প্রস্তাবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী, যা প্রকাশ করা হবে পরবর্তী দিন।


অধিবেশনের শুরুতেই প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ‘জুলাইযোদ্ধা’ এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তাদের অবদান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে।


চিফ হুইপ বলেন, নতুন সংসদ কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়বদ্ধ হবে এবং জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। এখানে যুক্তি-তর্ক ও গঠনমূলক সমালোচনা থাকবে, এবং বিরোধী দলের কাছ থেকেও ইতিবাচক সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


জুলাই সনদের শপথ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা শপথ নেননি। ভবিষ্যতে সংবিধানে এটি অন্তর্ভুক্ত হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া প্রথম দিনেই বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি ও বিশেষ কমিটিসহ অন্তত দুটি কমিটি গঠন করা হবে। সম্ভব হলে প্রিভিলেজ ও হাউস কমিটিও গঠন করা হতে পারে। প্রথম দিনের অধিবেশনের জন্য এসএসএফ ও সিএসএফ-এর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, যার কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে।