সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনই বিতর্ক ছাড়াই হয়নি। তিনি আদালতে স্বীকার করেছেন, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল ‘ডামি ও প্রহসনের নির্বাচন’।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। শুনানিতে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “আমার জীবনে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। তবে আমি স্বীকার করছি, নির্বাচনটি ডামি ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, এই নির্বাচন কি আমার কারণে ডামি হয়েছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোনো নির্বাচন নেই যা বিতর্কমুক্ত ছিল।”
বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ১টা ২০ মিনিটে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামসুজ্জোহা সরকার হাবিবুল আউয়ালের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, “হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আওয়ামী লীগের পক্ষে ফল আনতে সহায়ক ছিল। তিনি রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন।”
শুনানির একপর্যায়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “যদি আমাদের দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন না হয়, তাহলে হাজার বছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।” তিনি অতীতে কোনো সিইসি পদত্যাগ না করার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন এবং বলেন, “আমিও পদত্যাগ করিনি, কারণ কেউই তা করেননি।”
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হাবিবুল আউয়ালের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন এবং জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় হাবিবুল আউয়ালসহ সাবেক আরও দুই সিইসি ও বেশ কয়েকজন সাবেক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন খান।
এ মামলায় ইতোমধ্যে সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদাকেও গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
এই মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই মামলার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।





