শীতের আগমনের আভাসে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। বিক্রেতাদের আশা, শীত পুরোপুরি নামলে সবজির দাম আরও কিছুটা কমবে। অন্যদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মুরগির দামে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিপরীতে খুচরা পর্যায়ে আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা।


শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা ও প্যাকেট— উভয় ধরনের আটার দামই বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হতো ১০৫–১১০ টাকায়, এখন তা ১১৫–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটার কেজি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা।


এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি আটার দামে এক দফা বৃদ্ধি হয়েছিল। তখন দুই কেজির প্যাকেট আটা ৯০–৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকায় পৌঁছায়, আর খোলা আটার দাম হয় ৪৫–৪৮ টাকা। এরপর থেকে দামে সামান্য ওঠানামা চলছিল।


আজকের বাজারে প্রতি কেজি মুলা ৪০ টাকা, বরবটি ও করলা ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা ও টমেটো ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ টাকা, কাঁচা কলা (হালি) ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, কঁচুর লতি ৬০ টাকা, কঁচু ৫০ টাকা, ফুলকপি (ছোট) ৫০ টাকা, জালি ৪০ টাকা, আলু ২৫ টাকা ও বাঁধাকপি (ছোট) ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।



ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ১৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০–১৮০ টাকা। লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, আগের সপ্তাহে ছিল ৩১০ টাকা। পাকিস্তানি মুরগি ২৯০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩২০ টাকা। দেশি মুরগির দামও কিছুটা কমে ৫৫০–৫৬০ টাকায় নেমেছে, যেখানে গত সপ্তাহে ছিল ৬০০ টাকা।



খিলক্ষেত বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আম্মেদ ফিরোজ বলেন, “গত চার মাস সবজির দাম এত বেশি ছিল যে ঠিকমতো কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন দাম অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।”


কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রাফি জানান, “সবজির দাম কমে আসায় বিক্রিও বেড়েছে। শীতের প্রভাবে এখন থেকেই বাজারে দামের পতন শুরু হয়েছে, শীত বাড়লে দাম আরও কমবে।”


মুরগির বিক্রেতা ফরিদ বলেন, “এ সপ্তাহে মুরগির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে।”


বাজারে আসা ক্রেতা মোস্তফা জামান বলেন, “মুরগির দামে কিছুটা কমতি এলেও এখনো ব্রয়লার মুরগিই আমাদের ভরসা। দেশি বা অন্যান্য জাতের মুরগির দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।”