নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের ব্যবসায়ীদের চেয়ে বিদেশিদের কথাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সমস্যাগুলো সরকারের কাছে জানাতে চেয়েও বারবার ব্যর্থ হয়েছি।”
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিকেএমইএ সভাপতি।
এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিবছর ভালো মুনাফা করছে। সর্বশেষ বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা হয়েছে। এর পরও সরকার বিভিন্ন পণ্যের সেবার মাশুল একবারে ৪১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ৫-১০ শতাংশ বাড়ানো যেত, কিন্তু একলাফে ৪১ শতাংশ বাড়ানো যৌক্তিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশি কোনো পক্ষের কাছে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দিলে যদি খরচ কমে না, তাহলে আমাদের স্বার্থ কী? বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে খরচ কমার কথা, কিন্তু উল্টো মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। এটি ঠিক হওয়ার কথা নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু অভিযোগ করেন, চার মাস ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাক্ষাৎ পাননি। তিনি বলেন, “কারও সঙ্গে আলোচনার জন্য সরাসরি দেখা প্রয়োজন। প্রধান উপদেষ্টা যদি সময় না দেন, তাহলে নেগোসিয়েশন কীভাবে সম্ভব?”
বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, “আমরা চার মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চাইছি, কিন্তু পাইনি। অথচ স্টারলিংকের স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলে তার সঙ্গে দেখা করেন। যে কোম্পানি ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু ৪০ বিলিয়ন ডলারের খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেন না।”
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পোশাক শিল্পসহ উৎপাদনমুখী শিল্প বর্তমানে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে। এই অধ্যাদেশ, উৎপাদনমুখী শিল্পখাত এবং সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেমন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বৃদ্ধি নিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রম আইনের সংশোধন বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, “টিসিসি ও ওয়ার্কিং কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রথম ধাপে ৫০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের কারখানায় ন্যূনতম ৫০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের সভায় একতরফাভাবে এটি পরিবর্তন করে ২০–৩০০ শ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধাপ করা হয়েছে পাঁচটি। এটি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মাত্র ২০ শ্রমিক দিয়ে ইউনিয়ন গঠিত হলে শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিরাই ট্রেড ইউনিয়ন করবে, যা অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে, উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমাবে। নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনায় উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন।”





