নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি ও কালিগঞ্জ আংশিক) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন – যুব অধিকার পরিষদের সাতক্ষীরা জেলার সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, আছাদুল ইসলাম, আব্দল্লাহ নাসিম রাজু ও মুস্তাফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে আশাশুনি উপজেলার ১২ জন প্রভাবশালী নেতা ও কর্মী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। আশাশুনির খায়রুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে তারা এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন।

সকালে আয়োজিত এক বিশেষ যোগদান অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং সাবেক এসপি মাওলানা রিয়াছাতের পুত্র নুরুল আফসার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নতুন যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুলের মালা পরিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটি জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে আসা এই নেতাকর্মীদের যোগদানে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতি আস্থা রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতাকর্মীরাও তাদের বক্তব্যে জানান, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে তারা জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছেন।

নতুন যোগদানকারীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ লোভের কারণে সাতক্ষীরা জেলা সংগঠন আজ ধ্বংসের মুখে, সাতক্ষীরা গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটি না থাকলেও কয়েক বছরে জেলা কমিটি দেওয়া হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম কে ফোন দিলে তিনি বলেন, জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি আমার জানা নেই ও তার বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটি গঠনের স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে যান।

এই বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, হয়তো কোন কারণে তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। যে কেউ যে কোন সংগঠনে যেতে পারেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাতক্ষীরা-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, এমন পরিস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের এই যোগদান জামায়াতের পাল্লা ভারি করতে পারে। বিশেষ করে আশাশুনি ও কালিগঞ্জ এলাকার তরুণ ভোটারদের মধ্যে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন মেরুকরণ সাতক্ষীরার ভোটের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।