আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদের। বুধবার দলটি প্রথম দফায় ১২৫টি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে।

মনজুর কাদের বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি বিএনপি ছাড়ছেন এবং এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, দেশের অগ্রযাত্রা ও নতুন রাজনৈতিক ধারণায় আস্থা রেখেই তিনি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে এনে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সক্ষম দল হচ্ছে এনসিপি।

১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে মনজুর কাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ওই বছর ও ১৯৮৮ সালে পাবনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ওই বছর পাবনা-১ এবং ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য হন। পরে সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর আসনটি সিরাজগঞ্জ-৫ নামে নতুনভাবে গঠিত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খুব অল্প ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল লতিফ বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

এবারও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন মনজুর কাদের। তবে দলটি এই আসনে কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খানকে (আলিম) বেছে নেয়। এর পরই মনজুর কাদের বিএনপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ এবং প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মঙ্গলবার তার পদত্যাগ গ্রহণ করে বিএনপি।

এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দলীয় মনোনয়ন পান। এখন এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম এবং জামায়াত প্রার্থী আলী আলমের সঙ্গে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারও এই আসনে মনোনয়ন চাইছিলেন। তবে মনজুর কাদের মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।