পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিদেশে অর্জিত সম্পদ ও অর্থপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক নথিপত্র—মোট ২৩ বস্তা—চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে। এসব নথিতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই ও সিঙ্গাপুর ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়ায় সাইফুজ্জামানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
সম্প্রতি আটক হওয়া সাইফুজ্জামানের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী উৎপল পাল ও মো. আব্দুল আজিজ রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কর্ণফুলীতে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান জানান, সাইফুজ্জামানের স্ত্রী রুকমীলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াস এই নথিপত্র আগে নিজ বাড়িতে রাখলেও অভিযান সন্দেহে পরে ওসমান তালুকদার নামে একজনের বাসায় সরিয়ে ফেলেন। পরে সেই বাসার তালা ভেঙে ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার করা হয়।
নথিগুলোতে বিদেশে অর্থপাচার, অফশোর ব্যবসা এবং দেশীয় বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে উৎপল পাল ও আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে দুদক। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
উৎপল পাল বিদেশে অর্থ পাচারে সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন এবং আব্দুল আজিজ দেশে সাইফুজ্জামানের সম্পদ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, দুবাইয়ে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি সম্পত্তি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের অন্য আদেশে তাদের ৩৯টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে, যেখানে মোট জমা ছিল ৫ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এছাড়া, তাদের নামে থাকা ১০২ কোটি টাকার শেয়ার এবং ৯৫৭ বিঘা জমিও জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা নথিপত্র বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





