জাবি প্রতিনিধি : সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসাদ (জাকসুর) কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই হামলায় মদদদাতা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বেঁধে রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক সমিতি। 


শুক্রবার(২রা জানুয়ারি) রাতে সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ সোহেল রানা এবং সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইরীন আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিবৃতিটি দেওয়া হয়। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,'সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বক্তব্যে শিক্ষককে \"বেঁধে রাখা\", অপমান-হেনস্থা করা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো সহিংস ও অবমাননাকর হুমকির ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানাচ্ছে। 


এ ধরনের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানে যে কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি আইন, বিধি ও যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে হবে। অবৈধ আটক বা প্রকাশ্য অপমান-হেনস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয় যে ,' বিশেষভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বক্তব্য ও আচরণ কেবল ব্যক্তিগত নয়; তা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীসমাজের মনোভাবকে প্রভাবিত করে। তাই একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আরও সংযত, দায়িত্বশীল, মানবিক ও আইনসম্মত ভাষা ও আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্তিপূর্ণ, যুক্তিনিষ্ঠ ও আইনি পথেই সকল মতপ্রকাশ ও দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের আহ্বান জানাই। 

প্রসঙ্গত জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী  মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে তার নিজস্ব ফেইসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বলেন,'অগোচরে অনেক কিছুই হয়েছে আর না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা বহিষ্কৃত কোনো শিক্ষক যদি জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কখনো ক্যাম্পাসে আসে ,কোনো  গোপন মিটিং করার চেষ্টা করে অবগত হওয়া মাত্র তাকে উক্ত ডিপার্টমেন্টের সামনে বেঁধে রাখা হবে এবং সামনের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার দুঃসাহস দেখায় ,সে যেনো তার লোকচক্ষুতে যে মান-সম্মান আছে তা জলাঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ায়।”