বগুড়ার জেলা পরিষদ মিলনায়তনের অডিটোরিয়ামের নিচতলায় সোমবার বিকালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাক্রমে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের উপস্থিতিতে জেলা শাখার সমন্বয় সভা চলছিল। সভা স্থলে হামলার পর তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তার তীব্র উদ্বেগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়।


স্থানীয় পুলিশ জানায়, আয়োজনের বাইরে করতোয়া নদীর তীর থেকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হলে সেগুলো অডিটোরিয়ামের নিচে পড়ে। প্রথমটি অবিস্ফোরিত থাকলেও দ্বিতীয়টি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সদর থানা পুলিশ ও সিআইডি-র ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ বলেছে, দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উপস্থিত এসবারে সারজিস আলম হামলাকে ‘ফ্যাসিস্টদের কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রশাসনের প্রতি অভিযুক্ত দলে-গোষ্ঠীর ‘অস্ত্রধরের’ আগ্রাসন বন্ধের দাবি তুলেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের সহিংসতা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্তের অংশ হতে পারে—এজন্য প্রশাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সতর্কতা জরুরি বলে বলেন তিনি।


এনসিপি নেতারা বলেন, ককটেল হামলা তাদের কর্মকাণ্ড থামাতে পারবে না; প্রশাসন নিরাপত্তা দেওয়ায় অনীহা দেখালে অভিযুক্ত গোষ্ঠী তৈরী হয়। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহি ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।


মাঠে উপস্থিত অন্য নেতারা বলেছেন, এনসিপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথ ও সংসদে জনগণের প্রশ্ন তুলে চলবে; তারা বলেছে—হামলা, মামলা বা বাধা এ আন্দোলন থামাতে পারবে না।


বগুড়া সদর থানার ওসি হাসান বাসির নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনাটির ব্যাপক তদন্ত চলছে এবং যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।