মহেশখালীতে উপকূলীয় সুরক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসা প্যারাবন নিধনের ঘটনায় আবারও মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। 

গতকাল ২ এপ্রিল দায়ের করা এই মামলায় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, পূর্বের মামলাগুলোর মতো এবারও প্রকৃত প্রভাবশালী ‘রাঘববোয়ালদের’ আড়াল করে মামলাটি সাজানো হয়েছে।


বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জন হলেন: চকরিয়ার মুবিনুল ইসলাম (২৮) ও মো. মারুফুল ইসলাম (২০); কুতুবজুম ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামাল (৪০), ঘটিভাঙ্গার ইউপি সদস্য মো. ছিদ্দিক রিমন (৩৫), আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা আনোয়ার চৌধুরী (৪২), ছাত্রলীগ নেতা মো. শমসের (৩৫), আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদুর করিম (৪৫), জামায়াত নেতা সৈয়দুল হক সিকদার (৩৬), আওয়ামী লীগ নেতা মহোসীন আনোয়ার (৫০), সোনাদিয়া ইউপি সদস্য একরামুল হক (৪০), যুবদল নেতা কাইছার সিকদার (৪৫), কালু মিয়া (৪০), মোহাম্মদ শাহেদ (৩০), আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আমজু (৫৫), আওয়ামী লীগ নেতা রবি আলম (৪৫), ওসমান আলী, জসিম উদ্দিন (৩১), মোহাম্মদ আমিন (৫০), ইমতিয়াজ উদ্দিন নাকিব (৩২), যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম (৩২), সাজ্জাদ (৪০), নাজিম উদ্দিন (৪৫), জয়নাল আবেদীন (৫০), শামসুল আলম (৫০), আবদুর রহিম (৪২), যুবলীগ নেতা আব্বাস মিয়া (৪৮), আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন খোকা (৪৯), আজিজুল হক (৪৩), নুরুল আজিম (৪২) এবং মোহাম্মদ রফিক (৫৫)।

এছাড়াও মামলায় আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের ও দখল কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয় সাংবাদিক আজিজ সিকদার বলেন, \"মহেশখালীতে এখন প্যারাবন বলতে কিছুই নেই। প্রশাসন মাঝে মাঝে সাজানো অভিযান চালিয়ে মামলার নাটক করে। বড় বড় রাঘববোয়ালদের নাম বাদ দিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়, আবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও জড়ানো হয়েছে।\"

পরিবেশকর্মী রুহুল আমিন বলেন, \"মামলা হওয়া ভালো কথা, কিন্তু আসামিরা আদৌ আইনের আওতায় আসবে কি না সেটাই প্রশ্ন। আমরা চাই অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি নতুন করে ব্যাপকভাবে প্যারাবন রোপণ করা হোক।\"

অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা আইয়ুব আলী বলেন, \"যারা প্যারাবন কাটার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেই আমরা মামলা করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আগেও দুটি মামলা হয়েছে। বড় রাঘববোয়াল বলতে তারাই, যারা প্রতিনিয়ত বন কাটছে। নতুন করে চারজনের নামও যুক্ত করা হয়েছে যারা সম্প্রতি নিধনে জড়িত হয়েছে।\"

স্থানীয়দের মতে, মহেশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় বিস্তীর্ণ প্যারাবন ছিল যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এলাকাকে রক্ষা করত। কিন্তু অব্যাহত দখল ও নিধনের ফলে সেই বনভূমি এখন প্রায় বিলীন হওয়ার পথে।  এই মামলার মাধ্যমে কি সত্যিই থামবে প্যারাবন নিধন, নাকি এটিও কেবল একটি ‘দেখানো ব্যবস্থা’ হিসেবেই শেষ হবে প্রশ্ন জনসাধারণের।