সুইডেন সংবাদদাতা: সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি। প্রবাসী সংগঠন ‘প্রিয় বাংলাদেশ, সুইডেন প্ল্যাটফর্ম’ এর উদ্যোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

গত রবিবার (১০ আগস্ট)  সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা মেদবরিয়ারপ্লাটসেন তরিতে সমবেত হয়ে এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নকে পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০২৪ এ ছাত্রজনতার উপর গনহত্যার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা “প্রিয় বাংলাদেশ, সুইডেন” প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, নারী ও শিশুসহ অংশগ্রহণ করেন। প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র হাসান রাশেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদ স্টকহোমের খতিব রেদোয়ান আহমেদের কোরআন তেলাওয়াত এবং এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্ল্যাটফর্মের অন্যতম সমন্বয়ক সানাউল্লাহ শিমুল এবং সাদাত হোসেন। এরপর জেসমিন জাহানারা, নাজমুল ভূঁইয়া, ডঃ মহিউদ্দিন গাজী, মোঃ ইমতিয়াজ সহ বিভিন্ন পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লব’এর পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশা ও দাবি-দাওয়াগুলোর ওপর জোর দেন। তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত সহনশীল, আধিপত্যবাদমুক্ত সার্বভৌম এবং বাক-স্বাধীনতার দেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তাদের মধ্যে প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং বাংলাদেশে ভ্রমণের সময় ইমিগ্রেশনে যেকোনো ধরনের হয়রানি দূর করার বিষয়ে চাপ দেন। তারা স্বৈরাচারী হাসিনা ও তার দোসরদের অভিযুক্ত করে 'জুলাই-আগস্ট গণহত্যার' জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য দেশের স্বার্থে সবাইকে সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন ডঃ শহিদুজ্জামান কোরেশী। সবশেষে, বিপ্লবের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মোহাম্মদ আনিস, তৌহিদুল আনোয়ার, মোঃ রাইসুল হক এবং মনিরুল সুমন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ৩৬ জুলাইয়ের পটভূমি, তাৎপর্য ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর ভূমিকা তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রবাসে থেকেও দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। প্রবাসী শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন। শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এই ধরনের অনুষ্ঠান প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে সহায়তা করবে।