স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকলেও এখনো পূর্ণমাত্রায় প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গোছানোর কাজেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, সরকারের সামনে বর্তমানে বেশ কিছু জরুরি বিষয় রয়েছে, সেগুলো সামলাতেই নেতৃত্বের অধিকাংশ সময় চলে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পর দল পুনর্গঠনের জন্যও পর্যাপ্ত সময় পায়নি বিএনপি। কারণ, দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এখন মন্ত্রিসভা, সংসদীয় কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক ইস্যু মোকাবিলায় ব্যস্ত।


তিনি সতর্ক করে বলেন, সময়মতো সংগঠন গুছাতে না পারলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত বহু নেতা এখন সরকারি দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে দলীয় স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক নেতা বলেন, এই বাস্তবতায় মাঠপর্যায়ে সংগঠন এখনো পুরোপুরি সক্রিয় নয়।


এদিকে জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, প্রস্তুতিতে বিলম্বের প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। কিছু এলাকায় বিরোধী দলগুলো অনানুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছে। তারা স্থানীয় বৈঠক করছে, গণসংযোগ চালাচ্ছে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে।


মানিকগঞ্জের এক উপজেলা নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি এখনো শুরু হয়নি বললেই চলে। বেশি দেরি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’


তৃণমূল নেতারা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তারা দ্রুত একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে স্থানীয় ইউনিটগুলো প্রস্তুতি নিতে পারে। কেউ কেউ এ বিষয়ে দলীয়ভাবে তদবিরও করছেন।


দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এই উদ্বেগের কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারণী ফোরামে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


এরই মধ্যে বিএনপি দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিজেদের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।


দলীয় নেতাদের মতে, এই ব্যবস্থা সরকারকে নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় দেবে।

অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনের পর দলের কার্যক্রম পর্যালোচনায় কিছু সাংগঠনিক দুর্বলতা উঠে এসেছে বলেও জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে, যাতে আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়।


এ কারণে দল স্থানীয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে সময় নিচ্ছে। তবে আসন্ন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


গত ১ মার্চ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধান বাতিল করা হয়েছে। সংসদ এটি অনুমোদন করলে সেই অনুযায়ী নির্বাচন হবে, আর আইন পরিবর্তন হলে পদ্ধতিও বদলাবে।


বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ এবং প্রায় ৪ হাজার ৫৭০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।