মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে অন্তত ১৫টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে এবং বাকি তিনটি চলতি সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আগমুহূর্তে জাহাজগুলো প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। চারটি জাহাজে এলএনজি এবং দুটি জাহাজে এলপিজি রয়েছে। বাকি ৯টি জাহাজ সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল বহন করছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এসব জাহাজের আগমন কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।


চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ওমানের সোহার বন্দর থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘সেভান’ নামের জাহাজ আজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটিতে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি রয়েছে। একই বন্দর থেকে আসা ‘জি ওয়াইএমএম’ জাহাজটি ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। এসব জাহাজে মেঘনা গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি রয়েছে।


এছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে ৫ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রামে এসেছে। কাতার থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসানিয়া’ নামের দুটি জাহাজও বন্দরে ভিড়েছে।


সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথরবাহী আরও কয়েকটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে, যেগুলোতে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে।


বন্দর সূত্র আরও জানায়, ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামের দুটি জাহাজ আগামী সোমবার ও বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে জাহাজগুলো সংঘাত শুরুর কয়েক দিন আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।


উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ থেকে বাংলাদেশ সাধারণত এই পথেই জ্বালানি ও শিল্পকাঁচামাল আমদানি করে।