হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এই পদক্ষেপের পরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীর এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি বন্দরগুলো লক্ষ্যবস্তু হলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে “অবৈধ” ও “সামুদ্রিক দস্যুতা” হিসেবে আখ্যা দেন।

গত সপ্তাহান্তে তেহরান–ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার পথ না মেলায় দুই পক্ষই অবস্থান কঠোর করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রশাসনের এই অবরোধ ঘোষণা এসেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই রুটে অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে।

ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

এর আগে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ফলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল আকার নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।