কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আবাসিক হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট দখল ও বহিরাগত তোলাকে কেন্দ্র করে নিজ দলের কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এতে তিন জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সৌরভ কাব্য। তারা তিন জনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৮ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান, একই ব্যাচের সাইফুল, ১২তম ব্যাচের তরিকুল ও ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আতিকুর রহমান হল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অবৈধভাবে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং সেখানে ১৯তম আবর্তনের আরেক কর্মীকে তোলেন। একইভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে ছাত্রদল কর্মী সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং হলের সিনিয়রদের অবহিত করেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং তাদের বিভিন্ন সিটে থাকার নির্দেশ দেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে ঘুসি মারা হয়, এতে তার নাক ফেটে যায়।
হামলার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল থেকে পালিয়ে যান। এরপর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ অছাত্রদের হলে তুলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিজয় ২৪ হলসহ আরও কয়েকটি হলে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
আহত তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন‚ আমরা তখন হলের ছাদে ছিলাম। এর মধ্যে ছাত্রদলের আতিক এসে আমার কলারে ধরে চড় মারতে থাকে। এ সময় ১৬ ব্যাচের একজনের নাকে ঘুসি মেরে রক্ত বের করে ফেলে। এসময় তাদের সঙ্গে সাইফুল, তরিক আর ১৮ ব্যাচের সিফাত নামের একটা ছেলে ছিল। তখন সৌরভের নাক ফেটে যায়, আর আমাকে ধাক্কা মেরে কাঠে ফেলে দিলে আমার হাত মচকে যায়। আতিক আমার ডিপার্টমেন্টের সাবেক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কুবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনার সঙ্গে হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।





