মনোনয়নপত্র জমা ও আপিল শুনানি শুরু হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে—এ নিয়ে জোটের ভেতরে অনিশ্চয়তা ও টানাপোড়েন চলছে।
জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে প্রধান জট তৈরি হয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঘিরে। তাদের তুলনামূলক বেশি আসনের দাবির কারণেই শেষ পর্যায়ে এসে আলোচনা থমকে আছে বলে দাবি করছেন শরিক দলগুলোর নেতারা।
জোটের এক শরিক দলের মুখপাত্র বলেন, ইসলামী আন্দোলনকে জোটের দ্বিতীয় বৃহৎ শক্তি হিসেবে সম্মান দেওয়া হলেও তাদের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংসদে দলটির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও একক নির্বাচনে ভোটের হার বিবেচনায় অতিরিক্ত আসনের দাবি সমঝোতাকে জটিল করছে।
তবে জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির দেশে ফেরার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। আগে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন আপাতত স্থগিত থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে আসন সমঝোতা নিয়ে জট দেখছেন না যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, সমঝোতা প্রক্রিয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র কয়েকটি আসনে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে দরকষাকষি চলছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, তাদের দল অন্তত ৯০ থেকে ১০০ আসনকে সম্মানজনক মনে করে। তবে জামায়াত তুলনামূলক কম আসন দিতে চাইছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল এককভাবে অধিকাংশ আসন ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যা অন্য শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সমঝোতা চূড়ান্ত না হলেও জোটভুক্ত দলগুলো বিপুল সংখ্যক আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। আপিল শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি।
জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সব আসনে ঐকমত্য না হলে ১০ থেকে ১২টি আসনে ‘ওপেন ইলেকশন’ বা উন্মুক্ত নির্বাচনের পথে যেতে পারে জোট। এসব আসনে শরিক দলগুলো নিজ নিজ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, আপিল শুনানি ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেই অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারির মধ্যেই ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।





