শীত এলেই ত্বকের সমস্যা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হাতের তালুতে ফোসকা, খসখসে ভাব ও চামড়া ওঠা এই সময়ে খুব সাধারণ সমস্যা। ঠাণ্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাপ্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ত্বকে জ্বালা, টানটান ভাব, হালকা চুলকানি-সব মিলিয়ে অস্বস্তি বাড়ে।

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত পানি হারাতে থাকে। তার সঙ্গে অতিরিক্ত হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং ঠাণ্ডা পানির সংস্পর্শে আসা ত্বকের শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

কেন এই সমস্যা হয়?

আয়ুর্বেদ ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে-

হাতের ত্বকের উপরের স্তরটি মৃত কোষ হিসেবে খোসা ছাড়তে শুরু করে।

অতিরিক্ত ঠাণ্ডা স্পর্শ বা অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়।

হালকা একজিমা বা অ্যালার্জি থাকলে শীতে উপসর্গ বাড়ে।

হাতের ফোসকা শুকিয়ে গেলে সেই অংশে চামড়া ওঠা দেখা দেয়।

সময়ে যত্ন না নিলে এই শুষ্কতা ছোট ছোট ফাটলে পরিণত হতে পারে, যা ব্যথা বাড়ানোর পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

সমাধান কী?
১. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং

সকালে গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে হাত ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজ করুন।

গ্লিসারিন, ভ্যাসলিন, ইউরিয়া-বেসড বা সেরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার সবচেয়ে কার্যকর।

২. নারকেল তেলের ম্যাজিক

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন-

নারকেল তেলে আছে ভিটামিন-ই ও ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়।

এতে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা সংক্রমণ রোধে সহায়তা করে।

৩. হোম রেমেডি

হালকা গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবু ও মধু মিশিয়ে হাত ধুলে ত্বক নরম থাকে এবং জ্বালা কমে।

ওটস বা অ্যালো-ভেরা জেলও দ্রুত আরাম দেয়।

৪. গ্লাভস ব্যবহার করুন

বাইরে বেরোলে বা বাসন-মাজা/ঠাণ্ডা পানি ব্যবহারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের ওপর ঠাণ্ডার প্রভাব কমে।

যা এড়িয়ে চলবেন

বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া

তীব্র সুগন্ধিযুক্ত বা হার্শ কেমিক্যাল–সমৃদ্ধ সাবান

অতিরিক্ত গরম পানি

ঘন ঘন স্যানিটাইজার ব্যবহার

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন-হাত ধোয়ার জন্য সাধারণ সাবানের পরিবর্তে মৃদু ফোমিং ক্লিনজার বা প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করলে শীতে ত্বকের খোসা ছাড়ানোর সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

হাতে ফোসকা বড় হয় বা পুঁজ জমে

ব্যথা ও জ্বালা বাড়ে

ত্বক লালচে হয়ে ছড়িয়ে পড়ে

১-২ সপ্তাহেও সমস্যা না কমে

এগুলো একজিমা, অ্যালার্জিক ডার্মাটাইটিস বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সংকেত হতে পারে।