ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে যোগাযোগ শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে ভারতের বাংলাদেশস্থ হাইকমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।
ছিবগাত উল্লাহ জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তদের ভারতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখেছি। তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরত আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান সিআইডি প্রধান।
জানা গেছে, ভারতের আইন অনুযায়ী বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট (১৯৪৬)-এর ১৪ নম্বর ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট আইন (১৯২০) অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পৃথক মামলাও দায়ের করা হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে ভারতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলার বিচার আগে শেষ করা হবে, নাকি বিশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে—তা দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
যদি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার শেষ হওয়ার পর প্রত্যর্পণ করা হয়, তাহলে হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার শুরু করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে দুই দেশের সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত হলে এর আগেও তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে হাজির করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় এসটিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য গণমাধ্যমে পাঠায়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশে সংঘটিত হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
জানা যায়, ঢাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করার পরপরই ফয়সাল ও আলমগীর পালিয়ে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে অবস্থান করছিলেন।
শরিফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে তাকে গুলি করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ফয়সাল করিম মাসুদ সরাসরি হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন এবং আলমগীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। তাদের ধরিয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।





