জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের তিন সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের কিল্লার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের পরে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।


\r\n

আহতরা হলেন মো. হাছান উদ্দিন, এমদাদ হোসেন ও রাজিব উদ্দিন। তারা সবাই এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত এবং শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।


\r\n

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার মূল কারণ ছিল নতুন চর জাগলার ভূমি বন্দোবস্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে ভূমি দস্যুদের কাছ থেকে জমি কিনতে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দিতে হতো। তবে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ভূমিহীনদের এ ধরনের অর্থ প্রদানের পরামর্শ দেননি।


\r\n

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মো. হাছান উদ্দিন ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলায় শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার ওপর দা দিয়ে হামলা চালায়, পিঠ ও বুকে কোপ দেয় এবং ডান হাত ভেঙে দেয়। এমদাদ হোসেনও আহত হন, এবং তাদের রক্ষা করতে গিয়ে রাজিব উদ্দিনও আহত হন।


\r\n

হামলার শিকার মো. হাছান উদ্দিন অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মধ্যে আব্দুল মান্নান, সুমন উদ্দিন, মোসলেহ উদ্দিন, আলাউদ্দিন, আবদুল হক ধনু, সাকিল, সিরাজ, শামসুদ্দিন ও মহিউদ্দিন ছিলেন। তারা পূর্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি দল পরিবর্তন করেছেন।


\r\n

অভিযোগ অস্বীকার করে মহিউদ্দিন বলেন, ভূমি বিরোধের জেরে মারামারি হয়েছে, আমি এতে জড়িত নই। শামসুদ্দিন বলেন, প্রথমে এনসিপির লোকজনই আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।


\r\n

আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু সন্ত্রাস ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

\r\n

হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, আহতদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।