তেহরান বিশ্বাস করে, ইরান-মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত) অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইরানের ওপর কোনো ধরনের স্থল অভিযান শুরু হলে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে বলে মিডল ইস্ট আই’কে জানিয়েছেন ইরানের দুজন ঊর্ধ্বতন সূত্র।
এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত দ্বীপগুলো দখলের জন্য স্থলসেনা ব্যবহারের কথা ভাবছেন। মূলত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ এবং প্রণালীর ওপর নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘কাশম দ্বীপ’ এখন মার্কিন নিশানায় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকেই এই অভিযান চালানো হবে।
আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ: ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, তেহরান এখন মনে করছে যে শুরু থেকেই আমিরাত এই যুদ্ধে সক্রিয় ছিল। তিনি বলেন, ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বাস করে, আমিরাত তাদের নিজস্ব কিছু বিমানঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
এছাড়া তেহরানের অভিযোগ, ওমানসহ বিভিন্ন দেশে ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ বা ছদ্মবেশী হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যেখানে আমিরাত সহযোগিতা করেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণে আমিরাতের উন্নত এআই অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থল অভিযান ও ‘সহনশীলতা’র অবসান: এক ইরানি কূটনীতিক জানিয়েছেন, রাশিয়া ও অন্যান্য মিত্র দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী তারা মনে করছেন, আমিরাত থেকে একটি মার্কিন স্থল অভিযান এখন আসন্ন। যদিও ট্রাম্প আলোচনার অজুহাতে হামলা কয়েক দফা পিছিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তেহরান একে সেনা মোতায়েনের জন্য ‘সময়ক্ষেপণ’ হিসেবে দেখছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ পর্যন্ত ইরান শুধু সরাসরি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে হামলা সীমাবদ্ধ রেখেছে। কিন্তু যদি ইরানের কোনো দ্বীপ বা ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালানো হয়, তবে সেই ‘সংযম’ অবিলম্বে শেষ হবে।
আমিরাতের প্রতি চূড়ান্ত বার্তা: ইরানি সূত্রটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যে দেশ থেকে স্থল অভিযান চালানো হবে, ইরান তাকে সরাসরি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে গণ্য করবে। হামলার লক্ষ্যবস্তু আর শুধু সামরিক বা গোয়েন্দা স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমিরাতের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক সম্পদ এবং রিয়েল এস্টেট প্রজেক্ট (যেখানে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ রয়েছে) ইরানের নিশানায় পরিণত হবে।
সূত্রটি আরও বলেছেন, যদি কোনো রাষ্ট্র ইরানের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও দখলের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তবে সেই রাষ্ট্রকে আগ্রাসী হিসেবে গণ্য করে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই কড়া বার্তা ইতিমধ্যেই আমিরাত সরকারকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে ওই কূটনীতিক দাবি করেছেন।





