হার্টের সার্জারি সাধারণ চিকিৎসা নয়। ভালভ রিপ্লেসমেন্ট, বাইপাস বা অন্য যেকোনো কার্ডিয়াক অপারেশন রোগীর জীবনে বড় সিদ্ধান্ত ও বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। চিকিৎসকের পাশাপাশি এ সময় রোগীর সচেতন ভূমিকাই সার্জারির সাফল্য ও জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকরা বলছেন, সার্জারির আগে কী ধরনের অপারেশন হবে, সম্ভাব্য ঝুঁকি কী এবং অপারেশনের আগে ও পরে কী করণীয়-এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে রোগী মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারেন। এতে চিকিৎসা প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্জারির আগে রোগী যে সব ওষুধ গ্রহণ করছেন, তার পূর্ণ তালিকা চিকিৎসককে জানানো অত্যন্ত জরুরি। প্রেসক্রিপশনের ওষুধের পাশাপাশি ব্যথানাশক, ভিটামিন, হারবাল সাপ্লিমেন্ট বা ঘরোয়া ওষুধের কথাও জানাতে হবে। এসবের কিছু রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে কিংবা অ্যানেস্থেশিয়ার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কোন ওষুধ চালু থাকবে বা বন্ধ করতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকই নেবেন। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করাকে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
হার্ট সার্জারির ক্ষেত্রে মানসিক ও পারিবারিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশনের পর কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে এবং বাড়ি ফেরার পর বিশ্রাম ও সহায়তার প্রয়োজন হয়। তাই আগে থেকেই পরিবারের একজন সদস্য বা কেয়ারগিভারের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাড়িতে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, আরামদায়ক পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রিকভারিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, অনেকেই মনে করেন সার্জারির পর সব সমস্যা শেষ হয়ে যাবে। বাস্তবে হার্ট সার্জারি নতুন জীবনযাপনের শুরু মাত্র। দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত ওষুধ সেবন, হালকা ব্যায়াম ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কম লবণ ও কম চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।
সার্জারির পর সুস্থ হয়ে ওঠা ধাপে ধাপে হয়। বুকের হাড় বা অপারেশনের জায়গা সেরে উঠতে সময় লাগে। প্রথম দিকে হালকা হাঁটা বা ছোটখাটো কাজ করা গেলেও ভারী জিনিস তোলা বা জোরালো ব্যায়াম কয়েক সপ্তাহ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া রোগীর জানা উচিত, তিনি ওপেন হার্ট সার্জারি নাকি মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাবেন। রক্তপাত, সংক্রমণ, হার্টবিটের সমস্যা বা স্ট্রোকের মতো সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কেও আগে থেকে ধারণা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
সবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রশ্ন করতে দ্বিধা না করা। নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রোগীরই। অপারেশনের আগে, সময় এবং পরে কী হবে—সবকিছু পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়াই নিরাপদ ও সফল হার্ট সার্জারির অন্যতম চাবিকাঠি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস





