বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এমন একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, যারা দেশভিত্তিক সাম্প্রদায়িক বিভাজন ঘটাতে চায়, তারা মূলত দেশের ক্ষতি করতে চায়। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। হিন্দু-মুসলমানকে ভাগ করলে আমরা কখনো এগোতে পারব না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা নিমবাড়ী এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচনে প্রদত্ত আমানত কখনো খেয়ানত করা হবে না। রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তিনি কখনো কারো কাছ থেকে সুবিধা নেননি এবং সব সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ এবং মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদান করবে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে এবং এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তিনি গত শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে নিপীড়িত হয়েছে। এই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন জনগণের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে। ভোটাররাই দেশের প্রকৃত মালিক, তাই সঠিকভাবে ভোট দিতে হবে।
ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি মানুষের কল্যাণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। হিন্দু-মুসলমান যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে বসবাস করেছে এবং আমরা সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ চিরতরে বন্ধ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





