শেষ বাঁশি বাজার মুহূর্তে যেন ইতিহাসই লিখে ফেলছিল আইসল্যান্ড। গ্যালারিতে তখন উল্লাসের প্রস্তুতি। এইদার ক্রুইয়োনসেন বল জালে পাঠালেও, আগেই তার ফাউল চোখে পড়ে রেফারির। ভিএআরে দেখা সেই মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত রক্ষা করে ফ্রান্সকে। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দল নিয়েই ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল।

মঙ্গলবার রাতে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স, ফলে দুই ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে উঠে গেছে গ্রুপের শীর্ষে।


খেলা শুরুর পর থেকেই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে সফরকারী আইসল্যান্ড। ১১তম মিনিটেই দূরপাল্লার এক শটে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ-কে পরীক্ষা নেন মিকায়েল আন্দেরসন। দারুণ দক্ষতায় বল ঠেকিয়ে দেন মিয়াঁ।

জবাবে আক্রমণে যায় ফ্রান্সও। মানু কোনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও ১৯তম মিনিটে এমবাপ্পের নিখুঁত ক্রসে কাছ থেকে হেড করেন মার্কোস থুরাম। কিন্তু গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি।

এরপরই ঘটে ভুল। ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে নিজেদের অর্ধে ভুল পাস দিলে বল কুড়িয়ে নেন ক্রুইয়োনসেন। তিনি দেরি না করে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে গোল করে আইসল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।

প্রথমার্ধে গোল খেয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় ফ্রান্স, তবে ধীরে ধীরে খেলা নিজেদের করে নেয় তারা। ৩৩ মিনিটে চুয়ামেনির ক্রসে আবার হেড করেন থুরাম, ফিরতি বলে কোনের শট—দুইবারই ব্যর্থ করেন আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক।

৪৫তম মিনিটে থুরামকে ফাউল করলে পেনাল্টি পান ফ্রান্স। গোল করতে কোনো ভুল করেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১-১ গোলে সমতায় ফিরে স্বস্তি পায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ওলিসের একটি শট লাগে ক্রসবারে। তবে ৬২তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ফ্রান্স। চুয়ামেনির লম্বা পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে যান এমবাপে। ডি-বক্সে ঢুকে নিজে শট না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন রেন্ডাল কলো বার্কোলার দিকে, যিনি সহজ ফিনিশে গোল করেন। ফ্রান্স ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।


৬৮তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বল দখলের লড়াইয়ে ক্রুইয়োনসেনকে ফাউল করেন চুয়ামেনি। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে একজন কম নিয়ে খেলতে হয় ফ্রান্সকে। শেষ ২৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে বাধ্য হয় স্বাগতিকরা।

৮৮তম মিনিটে আবারও বল জালে পাঠান ক্রুইয়োনসেন। আইসল্যান্ডের গ্যালারিতে তখন উল্লাসের ঢেউ। কিন্তু রেফারি আবার ভিএআরের সহায়তা নেন এবং জানান, বল জালে পাঠানোর আগে ফাউল হয়েছিল। গোল বাতিল হয়ে যায়, ভেস্তে যায় আইসল্যান্ডের সমতা আনার স্বপ্ন।

শেষ পর্যন্ত, ১০ জনের দল নিয়েও জয় ধরে রাখে ফ্রান্স। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে দেশমের শিষ্যরা। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া আইসল্যান্ড রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে।