ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।


\r\n

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি বলেন, ইশতেহারের নামকরণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’, কারণ এটি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে উদ্ভূত জনগণের প্রত্যাশাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গীকার।


\r\n

ইশতেহারটি তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে – রাষ্ট্র গঠনে দলের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে দলের পরিকল্পনা, এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।


\r\n

ইশতেহারের মূল অংশগুলো শিরোনাম আকারে তুলে ধরা হলো:

১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।

২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

৪. রাষ্ট্রপরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহ’র প্রধান্য।

৫. কৃষি ও শিল্প বিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠন।

৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ, কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।

৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান।

৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।

৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।

১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সকলের মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা।

১২. রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।

১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।

১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব।

১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান।

১৬. শুধু দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমন নয়; নির্মূলকরণ কর্মসূচিও গ্রহণ।

১৭. শুধু আইনের শাসন নয়; ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।

১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য PR (Proportional Representation) পদ্ধতি বাস্তবায়ন।

১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।

২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।

২১. খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, জুলুম ও দুঃশাসন বিলোপ।

২২. জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

২৩. নারীদের সমঅধিকার ও অগ্রাধিকার নিশ্চিতকরণ।

২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ ও আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে ওয়ানস্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা।

২৫. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।

২৬. কওমি মাদরাসায় ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামায়ে কিরামকে সরকারি সুযোগের আওতায় আনা।

২৭. সড়ক নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

২৮. ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা।

২৯. শ্রমিকের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।

৩০. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সকল সিন্ডিকেট ভাঙা।


\r\n

এই ইশতেহারের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিজেদের লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে।