দীর্ঘ ৩৫ বছর পর হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এবার সব প্রার্থীর জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী টেস্টে পজিটিভ হলে তার প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়া আচরণবিধিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া আচরণবিধিতে প্রার্থী, ভোটার ও সাংবাদিকদের জন্য মোট ১৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও একাডেমিক কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়। এজন্য সংশোধিত গঠনতন্ত্র ও বিভিন্ন বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত আচরণবিধি নির্ধারণ করা হবে। তার ভাষায়, “আমরা কাউকে কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

এর আগে বৃহস্পতিবার চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় কোনো শোভাযাত্রা করা যাবে না। সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দেওয়া যাবে। প্রচারণা শুরু হবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে এবং চলবে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে, তবে রাত ৯টার পর মাইক ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

প্রচারে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব বা মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া যাবে না। সভা-সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করতে চাইলে রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে কেবল প্রার্থীর নিজের ছবি ব্যবহার করা যাবে। বহিরাগতদের হলে অবস্থান করা যাবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনায় পোস্টার বা লিফলেট সাঁটানো নিষিদ্ধ। ভোটের দিন ভোটারদের পানীয় বা খাবার পরিবেশন করা যাবে না।

ভোটাররা বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজ নিজ হলে ভোট দেবেন। নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রার্থী, এজেন্ট ও অনুমোদিত ব্যক্তির বাইরে কেউ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। গণমাধ্যমকর্মীরাও রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

বিধিমালা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা রাষ্ট্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।