গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৯ সন্তান হারানো ফিলিস্তিনি নারী চিকিৎসক আলা আল-নাজ্জার এবার তাঁর স্বামীকেও হারালেন। গত ২৪ মে আল-নাজ্জারের বাসভবনে চালানো ওই হামলায় তাঁর স্বামী, চিকিৎসক হামদি আল-নাজ্জার গুরুতর আহত হন। অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১ জুন) তাঁর মৃত্যু হয়।

\r\n

আনাদোলু নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, হামলায় নাজ্জারের ৯ সন্তান প্রাণ হারান। সাত সন্তানের মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, বাকিদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। পরে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে তাদের মরদেহ বের করা হয়। একমাত্র সন্তান আদম বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছে।

\r\n

ভয়াবহ এই পারিবারিক ট্র্যাজেডির মধ্যেও আলা আল-নাজ্জার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তিনি নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন শিশুবিশেষজ্ঞ। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি অন্যান্য চিকিৎসকদের মতোই জরুরি বিভাগে কাজ করছেন।

\r\n

নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আহমদ আল-ফারা বলেন, \"নিজের ৯ সন্তান হারিয়েও তিনি দায়িত্ব থেকে সরেননি। মাঝেমধ্যে স্বামী ও সন্তানের খবর নিচ্ছিলেন, কিন্তু কাজ থামাননি।\"

\r\n

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউসুফ আবু আল-রিশ জানান, আলা আল-নাজ্জার সন্তানদের বাড়িতে রেখে হাসপাতালে আসেন অসুস্থ শিশুদের সেবা দিতে, যাদের এই হাসপাতাল ছাড়া আর কোনো আশ্রয় নেই।

\r\n

আবু আল-রিশ বলেন, “তিনি যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তখন তাঁর চোখে ছিল নীরব এক আত্মসমর্পণ। কোনো চিৎকার নয়, কেবল শান্ত স্বরে আল্লাহকে ডাকছিলেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন।”

\r\n

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, আলা আল-নাজ্জারের বাড়িতে চালানো ড্রোন হামলার বিষয়টি তারা তদন্ত করবে।

\r\n

৩৮ বছর বয়সী আলা আল-নাজ্জার গাজার মানবিক সংকটের মুখে চিকিৎসা সেবায় অবিচল থেকেছেন। অথচ তাঁর নিজের জীবন পরিণত হয়েছে এক নিঃসীম ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিতে।