১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন রিকশাচালক আজিজুর রহমান। পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ (শনিবার) শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে আজিজুরের স্ত্রী চুমকি বলেন, “আমার স্বামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। আবেগের বশে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন। জামিন পেয়েছেন, আমি খুশি।”
প্রতিবেশী জোবায়ের বলেন, “আজিজুর ভাড়ায় রিকশা চালান। সাত হাজার টাকা দিয়ে রিকশা কেনারও সামর্থ্য নেই তার। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ফুল দিতে গিয়েছিলেন। তার জামিন হওয়ায় আমরা সবাই খুশি।”
আটকের পর আজিজুর সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আসিনি। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। তাই নিজের হালাল উপার্জনের টাকা দিয়ে ফুল কিনে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলাম।”
তবে আজিজুরকে ১৫ আগস্ট গ্রেফতার দেখালেও, তাকে আদালতে হাজির করে গ্রেফতার দেখানো হয় গত বছরের জুলাই আন্দোলন–সংক্রান্ত একটি মামলায়। মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে একটি মিছিল যাচ্ছিল। সেখানেই পেট্রোলবোমা ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে, গুলিবিদ্ধ হন মো. আরিফুল ইসলাম। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন এবং চলতি বছরের ২ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজিজুরকে কারাগারে পাঠানো হয়। এখন পুলিশ প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে মুক্ত থাকবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।






